OBC Certificate – 5 লাখ ওবিসি সার্টিফিকেট বাতিল কাদের হবেনা? কিভাবে এই সার্টিফিকেট পাওয়া যায়

প্রায় ১২ বছর পর গতকাল বুধবার, কলকাতা হাইকোর্ট ওবিসি বা OBC Certificate সংশাপত্র বাতিল সংক্রান্ত মামলার রায় ঘোষনা করলো। ২০১০ সালের পর থেকে রাজ্যে ইস্যু হওয়া প্রায় ৫ লক্ষ ওবিসি সার্টিফিকেট বাতিল বলে বিবেচিত হবে। এরই সঙ্গে ৩৭টি শ্রেণির ওবিসি সংরক্ষণ বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট। এই ঘোষণার একপ্রকার চিন্তায় পড়ে গেছেন ওবিসি কার্ড হোল্ডাররা।

Advertisement

What are The Advantages of OBC Certificate

ওবিসি সার্টিফিকেট পাবার যোগ্যতা কাদের

যেসব সম্প্রদায় শিক্ষাগত এবং সামাজিকভাবে পিছিয়ে রয়েছেন তাদের অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি হিসেবে ধরা হয়। তাই তাদের সার্বিক উন্নয়নের জন্য সরকারি চাকরি ও উচ্চশিক্ষায় সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় সরকারের পক্ষ থেকে। সেই সংরক্ষণের সুবিধা পাওয়ার জন্য একটি কার্ড দেওয়া হয় সরকারের পক্ষ থেকে সেটা কে ওবিসি কার্ড বা OBC Certificate বলা হয়।

Advertisement

অর্থাৎ অনগ্রসর শ্রেণি ভুক্তদের সংরক্ষণের সুবিধা দিতে রাজ্য সরকারের তরফে দেওয়া শংসাপত্রই হল ওবিসি সার্টিফিকেট বা OBC Certificate ১৯৮০ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী, সেইসময় দেশের ৫২ শতাংশ মানুষ অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণিভুক্ত ছিল। আবার ২০০৬ সালে ন্যাশনাল স্যাম্পেল সার্ভে অর্গানাইজেশন হওয়ার পর সেই সংখ্যা কিছুটা কমে ৪২ শতাংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ওবিসি সার্টিফিকেটে কি কি সুবিধা পাওয়া যায়

সরকারি চাকরির জন্য ওবিসিরা বা OBC Certificate অনেকটাই সংরক্ষণ পায়। পশ্চিমবঙ্গে সরকারি চাকরিতে অনগ্রসর শ্রেণির জন্য ১৭ শতাংশ সংরক্ষণ রয়েছে। তার মধ্যে ক্যাটেগরি-এ শ্রেণিভুক্তরা ১০ শতাংশ সংরক্ষণের সুবিধা পান। আর ক্যাটেগরি-বি শ্রেণিভুক্তরা ৭ শতাংশ সংরক্ষণের সুবিধা পান।

ক্যাটাগরি ‘এ’ ওবিসি এবং ‘বি ‘ওবিসি কিভাবে বিভক্ত করা হয়

ক্যাটেগরি এ ওবিসি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ৮১টি জাতি। যার মধ্যে ৭৩টি জাতি মুসলিম। তার মধ্যে বৈদ্য মুসলিম, ব্যাপারী মুসলিম, মুসলিম ছুতোর মিস্ত্রি, মুসলিম দফাদার, গায়েন মুসলিম, মুসলিম জমাদার, মুসলিম কালান্দার, কসাই, মাঝি (মুসলিম), খানসামার মতো জাতিভুক্তরা রয়েছে।
ক্যাটেগরি বি ওবিসি তে ৯৮টি জাতির মধ্যে ৪৫টি রয়েছে মুসলিম। ক্যাটেগরি-বি’তে রয়েছে বৈশ্য কাপালি, বংশী বর্মণ, বারুজীবী, চিত্রকর, দেওয়ান, কর্মকার, কুর্মি, মালাকার, ময়রা, গোয়ালা, তেলির মতো জাতিভুক্তরা।

ওবিসি সার্টিফিকেট বাতিলের সিদ্ধান্তের কারণ

কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা এই নির্দেশ দেন। কারণ হিসাবে জানা যাচ্ছে ২০১০ সালের পর তৈরি হওয়া ওবিসি সার্টিফিকেট বা OBC Certificate গুলো রাজনৈতিক কারণে নির্দিষ্ট কিছু মুসলিম শ্রেণিকে ‘ভোট ব্যাঙ্ক’ বানিয়ে এই সংরক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। ভোট প্রচারের সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণের জন্য ব্যাকওয়ার্ড ক্লাস ওয়েলফেয়ার কমিশন তাড়াহুড়ো করে এই সংরক্ষণের সুপারিশ করেছিল।

গরমের ছুটিতে কাটছাঁট! কিছু দিনের মধ্যে খুলতে পারে স্কুল। শিক্ষক ও পড়ুয়াদের জন্য জরুরি বার্তা

উচ্চ আদালত এই ব্যাপারটিকে পর্যালোচনা করে দেখেন যে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মুসলিমদের ৭৭টি শ্রেণিকে ওবিসি সংরক্ষণ দেওয়া গোটা মুসলিম সমাজ এবং গণতন্ত্রের জন্য অপমানজনক। তাই আদালত নির্দেশ দিয়েছে, ব্যাকওয়ার্ড ক্লাস কমিশন আইন ১৯৯৩ অনুযায়ী ওবিসিদের তালিকা তৈরি করতে হবে। ২০১০ সালের আগে পর্যন্ত যারা ওবিসি ক্যাটাগরির ছিলেন একমাত্র তাদেরই ওবিসি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা যাবে। বাকি ২০১০ সালের পরবর্তী ওবিসি ক্যাটাগরিদের সার্টিফিকেট বা OBC Certificate বাতিল করা হবে।

Ration Cards Cancel - রেশন কার্ড বাতিল

এমনকি তারা যদি পরবর্তী সময়ে চাকরির জন্য এই সার্টিফিকেট ইস্যু করে সেই ক্ষেত্রেও এ সার্টিফিকেট গ্রাহ্য করা হবে না বলে জানিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। কিন্তু হাইকোর্ট এই কথাও জানিয়েছে এই সময়ের মধ্যে যারা এই সার্টিফিকেট ইস্যু করে চাকরি পেয়েছে তাদের চাকরি বহাল থাকবে। তাই সেই নিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের কোন চিন্তার কারণ নেই। এদিকে হাই কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, এখন থেকে কারা ওবিসি সার্টিফিকেট পাবেন সেই তালিকা ঠিক করবেন রাজ্যের আইনসভা অর্থাৎ বিধানসভা।

পশ্চিমবঙ্গে ৫ লাখ OBC Certificate বাতিল ঘোষণা। যারা ইতিমধ্যেই চাকরি ও সুবিধা পেয়েছেন, তাদের কি হবে?

ওয়েস্ট বেঙ্গল ব্যাকওয়ার্ড ক্লাস ওয়েলফেয়ার কমিশনকে ওবিসিদের তালিকা নির্ধারণ করতে হবে। সেই তালিকা রাজ্যের আইনসভা বা বিধানসভাকে পাঠাতে হবে। যাঁদের নাম বিধানসভা অনুমোদন দেবে একমাত্র তারাই এখন থেকে ওবিসি বলে গণ্য হবেন। এদিকে কলকাতা হাইকোর্টের রায় ঘোষণা হওয়ার পর রাজ্য রাজনীতি উত্তাল হয়ে উঠেছে। তবে ২০১০ এর আগে পাওয়া ওবিসি ক্যাটাগরির কোনো ব্যক্তির চাকরিক্ষেত্রে কোনো প্রভাব পড়বেনা বলে অনেকটাই স্বস্তি পেয়েছেন তারা।
Written by shampa debnath.

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button